বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

লেঙ্গুরার পাহাড়ে সাত শহীদের সমাধিস্থলে

লেঙ্গুরার পাহাড়ে সাত শহীদের সমাধিস্থলে

গণেশ্বরী নদীর জনপদে লেঙ্গুরায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঘুমিয়ে আছেন। আব্বার মুখে সেই কৈশোরকাল থেকে শুনছি নাজিরপুর যুদ্ধের কথা। নাজিরপুর সম্মুখযুদ্ধে যে সাতজন বীর শহীদ হয়েছিলেন তাদেরকেই লেঙ্গুরার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ফুলবাড়ী গ্রামে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে ১১৭২ নাম্বার পিলারের কাছে দাহ এবং সমাহিত করা হয়। আব্বার মুখে শুনতে শুনতে নাজিরপুর যুদ্ধের বীর শহীদদের কথা অন্তরে গেঁথে ছিল। অনেকদিনই ভেবেছি, শহীদদের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা সমর্পণ করে মাটি ছুঁয়ে আসব। কিন্তু অবকাশ হয়নি। সরকারী চাকরি থেকে অবসরে এসে আমি আজ শিকড়ের সন্ধানে বেরিয়েছি। খুঁজে দেখছি লড়াকু পুরুষের আত্মত্যাগ আর গৌরবের অমোচনীয় ইতিহাস।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে পৌঁছুলে অন্যরকম একটা শিহরন কাজ করে। ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না; কী এক শান্তি ও আবেগে চক্ষু ভিজে যায়। মনে হয় আমার পিতার সহযোদ্ধাদের লড়াকু আত্মস্মৃতিতে লাল হয়ে আছে বাংলার মাটি। এই বাংলার ফুল-পাখি-বৃক্ষ-তরুলতা কিংবা বিল-হাওড়ের অনন্ত প্রকৃতিতে মিশে আছেন বঙ্গবন্ধু আর তাঁর মহৎ সৈনিকদের অমলিন আত্মত্যাগ। এই ইতিহাসকে কেউ ম্লান করতে পারবে না। তাই, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো আমার কাছে খুব পবিত্র। আমার আব্বাই শিখিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস। প্রাসঙ্গিকভাবে বলি, আমার পিতা ডাক্তার আখলাকুল হোসেন আহমেদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-২২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রদান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে এদেশের আপামর জনসাধারণ যখন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন আমার পিতা মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেশখলা ক্যাম্পইনচার্জ এবং ময়মনসিংহের নর্থইস্ট জোন-২ এ সিভিল এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, রাজনীতি ও আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে লালন করে আসছি।

এ আগ্রহ থেকেই দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেশখলা, মহাদেও, রংড়া, তুরা ঘুরতে গিয়েছিলাম, যেখানে আমার পিতাসহ সহযোদ্ধাগণ দেশের বিজয়ের জন্য কাজ করেছিলেন। ভ্রমণ শেষে ‘আমার বাবা এবং স্মৃতিতে অম্লান ১৯৭১’ শিরোনামে আমার লিখাটি ‘দৈনিক সমকালে’ ১২ এপ্রিল, ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

আজকে আমি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আরেকটি স্থান নিয়ে কিছু লিখতে চাই। কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়ের পাদদেশে সাত শহীদের এই ঐতিহাসিক সমাধিস্থল। নাজিরপুরের যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিলেন, যারা দেশমাতৃকার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বীরত্বগাথা সম্পর্কে জানা এবং সমাধিতে শ্রদ্ধা অর্পণের জন্যই ২৭ জানুয়ারি ২০২১ নেত্রকোনা থেকে কলমাকান্দার উদ্দেশে আনুমানিক বারোটার সময় রওনা হই। নেত্রকোনা জেলা হতে ৪০ কিলোমিটার দূরে কলমাকান্দা উপজেলা।

আনুমানিক দুইটার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসায় উপস্থিত হয়ে পরিপূর্ণ আতিথেয়তায় সারা হলো মধ্যাহ্নভোজ। কলমাকান্দা সদর থেকে লেঙ্গুরা ইউনিয়নে, লেঙ্গুরা মৌজায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল আনুমানিক ২৩ কিলোমিটার। আমার স্ত্রী বেগম লায়লা আরজুমান এবং ছোট ছেলে সাবাব আমার সঙ্গে রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দন বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ নুরুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহেল রানাসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি আমার সফরসঙ্গী। সফরসঙ্গী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের পেয়ে আমি খুব গর্বিত।

সম্ভবত রবিবার ছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই। খবর পাওয়া গেল রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কলমাকান্দা আসবে। ওরা রসদ নিয়ে আসবে। এই রসদে খাদ্য-সামগ্রী যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে প্রচুর গোলাবারুদ। মুক্তিযোদ্ধারাও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না। পরিকল্পনা করা হয়, দুর্গাপুর কলমাকান্দার নদীপথে নাজিরপুর বাজারের কাছে পাকবাহিনীর ওপর আক্রমণ করা হবে। কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে মোট তিনটি দলে ভাগ হয়ে ৪৫ মুক্তিযোদ্ধার একটি গ্রুপ ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় নাজিরপুর বাজারে পৌঁছায়। তিনটি দলই মূলত নাজিরপুর বাজারের সব প্রবেশপথে সতর্কভাবে এ্যাম্বুশ নেয়।

কিন্তু রাত পেরিয়ে ভোর হয়। সকাল ৯টার সময় পাকিস্তান বাহিনী আসার কোন লক্ষণ না দেখে এ্যাম্বুশ প্রত্যাহার করে ক্যাম্পের পথে ফেরার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নাজিরপুর বাজারের দিকে এগোতে থাকে। সারারাত এ্যাম্বুশ শেষে শিকার না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা তখন বেশ উত্তেজিত। কমান্ডার নাজমুল হক তারা তখন নাজিরপুর বাজারের কাচারি ঘরটি পুড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই কাচারি ঘরটিই ছিল পাকিস্তান বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প। শত্রুর আশ্রয়স্থল পুড়িয়ে দেয়ার মধ্যে একটা সুখ আছে। এই সময় সতেরো জনের দলটি কিছুটা অসতর্কই হয়ে উঠল। বাজারের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে নদী। এ সময় বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে একটি পালতোলা নৌকা দেখা গেল। নৌকা দেখেই লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করল। নৌকা থেকেই ব্রাশ ফায়ার শুরু করে দিল বর্বর পাকবাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা আর সময় পায়নি। পাল্টা আক্রমণের জন্য পজিশন নেয়ার মতো তাদের কোন জায়গা ছিল না। বিপন্ন এই মুহূর্তে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও মুক্তিযোদ্ধারা পালিয়ে যাননি। অস্ত্র হাতে নিজেদের শপথ ভুলে যাননি। দেশকে ভালবেসে লড়াই করেছেন। ফায়ার অপেন করেছেন। যুদ্ধ শুরু হলো। নাজমুল হক তারা, আজিজ ডাক্তার, ভবতোষ, দ্বিজেন, ফজলুল হক, জামাল উদ্দিন, নুরুজ্জামানসহ সবাই মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে এ এক অসম যুদ্ধ। মুহূর্তেই স্টেনগানে ব্রাশফায়ার করেন কমান্ডার তারা। শুরুতেই শত্রুর একটি বুলেট কমান্ডারের কণ্ঠনালী ভেদ করে চলে যায়; গুরুতর আহত কমান্ডারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিয়ে সহযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে থাকেন। একটা সময় পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রাধান্য বিস্তার করে চলছিলেন। কিন্তু একসময় হঠাৎ করে পাকবাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধাদের ডিফেন্সের ভেতরে চলে আসে। মুক্তিযোদ্ধাদের এলএমজি চালাচ্ছিলেন জামাল। পাকবাহিনী প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করে জামালের ওপর। সে আক্রমণে ঘটনাস্থলেই জামাল নিহত হয়। এলএমজি ফায়ার বন্ধ হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

মুক্তিযোদ্ধাদের কভারেজ দলটি তখন সহযোদ্ধাদের উদ্ধারের জন্য লেঙ্গুরা বাজারের দিকে এগোতে থাকে। অগ্রসর হওয়া এই দলটি ফায়ার করতে করতে এগোতে থাকে। এ সময় পাক হানাদারদের উদ্ধারের জন্য একটি হেলিকাপ্টার উড়ে আসে। কমপক্ষে আটঘণ্টা স্থায়ী হয় এই যুদ্ধ। বিকাল ৫টার দিকে ৩ জন নিহত এবং একজন আহত পাকসেনাকে তুলে নিয়ে ত্বরিত গতিতে হেলিকপ্টারটি প্রস্থান করে। এই যুদ্ধে শহীদ হন নেত্রকোনার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ ও মোহাম্মদ ফজলুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইয়ার মাহমুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, মোঃ নুরুজ্জামান, দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস এবং জামালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জামাল উদ্দিন। এই সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সহযোদ্ধাগণ লেঙ্গুরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ী নামক স্থানে সমাধিস্থ করেন।

প্রতিবছর ২৬ জুলাই; এই দিনটাকে সহযোদ্ধারা তাই ‘ঐতিহাসিক নাজিরপুর দিবস’ হিসেবে পালন করেন। এই দিবসকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ জনসাধারণরা আসেন এই গৌরবের তীর্থস্থানে।

কেন আসেন? কেন করেন শ্রদ্ধা নিবেদন? সাত শহীদের মাজার নামক এই স্থানটি মূলত নিজেকে চেনার আয়না। মুক্তিযোদ্ধারা আসেন তাঁদের বন্ধু, ভাই, সহযোদ্ধার প্রতি ভালবাসা নিবেদন করতে। নতুন প্রজন্মের সন্তানরা আসেন আত্মপরিচয়ের শিকড়-সন্ধানে। পিতার জিনকে, রক্তকে আমরা সহজাতভাবেই বহন করি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং ইতিহাসের শক্তিমান পুরুষদের রক্ত-রণাঙ্গনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই লেঙ্গুরার পাহাড়ী গণেশ্বরী নদীর তীরে ফুলবাড়ী নামক স্থানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সাত শহীদের স্মরণে স্থাপিত হয়েছে ‘স্মৃতিফলক’। ‘স্মৃতিফলকে’র সামনে দাঁড়িয়ে আমি বোঝেছি; এটি শুধু পাথরের চিহ্ন নয়; নয় শুধু পর্যটন কেন্দ্র। সাতজন শহীদের এই তীর্থস্থান মূলত বাংলাদেশের ইতিহাস পুস্তক। এ যেন আত্মচৈতন্যের গান।

কলমাকান্দা থেকে নাজিরপুর যাতায়াতের রাস্তাটি খুব ভাল নয়। বাস, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে উপজেলা থেকে পৌঁছুতে সময় লাগল প্রায় ৪০ মিনিট। সন্ধ্যাসংলগ্ন সময়ে আমরা সমাধিস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালাম। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছোট মেয়েরা গান গেয়ে, ফুলের মালা দিয়ে আমাদের বরণ করে নিল। প্রায় ৩.৮ একর জমির মধ্যে বিশাল মেহগনির বাগান। বাগানের ঠিক মাঝখানে বীর শহীদদের সমাধিস্থল। সমাধিস্থলের নীরবতায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। শহীদদের সমাধিস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধায় মনটা কেমন যেন পবিত্র হয়ে উঠছে। অন্যরকম একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। সবাই নীরবে তাকিয়ে আছি। অতঃপর প্রত্যেকেই সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি। ভারতীয় সীমান্তের মাঝখানে দেশের মুক্তিতে জীবন উৎসর্গকৃত শহীদদের মাজার। পাশের পাহাড়েই মানুষদের বসতি। বোঝা যাচ্ছে, পাশেই বাজার আছে। সেই বাজার থেকে সওদা করে অনেকেই নিজের কুটিরে ফিরছেন। আমাদের সফরসঙ্গীরা বললেন, বাজারের আশপাশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারো ও হাজংদের বসবাস। সীমান্তবর্তী এই পাহাড়ী উপত্যকাতেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কাজে, শরণার্থী ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমার পিতা এবং সহযোদ্ধাগণ। যখন এই পাহাড়টি দেখছিলাম তখন সেই ৪৯ বছর আগের স্মৃতি মনে পড়ছে।

স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ বলছিলেন সমাধিস্থলটিরও সংস্কার প্রয়োজন। সমাধিস্থলে আসার রাস্তাটি খুবই জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত। তাই, নেত্রকোনা থেকে সিধলি হয়ে নাজিরপুর বাজারের ভেতর দিয়ে লেঙ্গুরা পর্যন্ত রাস্তাটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খুব দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। রাস্তার সমস্যা ছাড়াও দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগার, টয়লেটের ব্যবস্থা বা যাত্রী ছাউনি নেই। স্থানীয়দের বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই তীর্থস্থান দেখার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য দূরদূরান্ত থেকে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অনেকেই আসেন। এসে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে ক্লান্তি বোধ করেন। এখানে মানসম্মত আবাসিক হোটেল বা রেস্ট হাউসের ব্যবস্থা থাকলে অনেক সুবিধা হতো। বিশুদ্ধ পানি বা বিদ্যুত ব্যবস্থারও পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। তবে আশার কথা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক ‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ঐতিহাসিক এ স্থানটিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে অবশিষ্ট কাজগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ জেলা প্রশাসন নেত্রকোনার মাধ্যমে সমন্বয়পূর্বক উদ্যোগ গ্রহণ করে সাজাতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের ১১ নং সেক্টরের ইতিহাস ভিত্তিক তীর্থস্থান।

সন্ধ্যার নীরবতায় সমাধিস্থল থেকে ফিরছি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণ ঘুমিয়ে আছেন মেহগনির ছায়ায়। সমাধিস্থলের ছায়া থেকে আমি আশ্চর্য এক শান্তি ও প্রেরণা নিয়ে এলাম। স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটিতে এসে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রেরণা ও দেশপ্রেমের পাঠ নেবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই ত্যাগ চিরদিন বাঙালীর হৃদয়ের মণিকোঠায় অম্লান থাকবে।

লেখক : সাবেক সিনিয়র সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা পর্ষদ

দৈনিক জনকণ্ঠ





আজকের নামাজের সময়সূচী

    Dhaka, Bangladesh
    বুধবার, ৩ March, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:০৪
    সূর্যোদয়ভোর ৬:১৯
    যোহরদুপুর ১২:১০
    আছরবিকাল ৩:৩২
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:০২
    এশা রাত ৭:১৭

স্বর্ণা যুব সমবায় সমিতি লিঃ

পুরাতন সংবাদ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©2019PROTHOM SOKAL24. All rights reserved.
Design BY PopularHostBD