বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

গন্তব্য: কবি নির্মলেন্দু গুণের কাশবন-

গন্তব্য: কবি নির্মলেন্দু গুণের কাশবন-

 

ময়মনসিংহ জংশন থেকে মোহনগঞ্জগামী ট্রেনে চড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের উন্মুক্ত ব্রীজ পারি দিলেই শহর লাগোয়া স্টেশন শম্ভুগঞ্জ। শম্ভুগঞ্জ থেকে বিসকা, গৌরিপুর জং , শ্যামগঞ্জ জং , হিরণপুর, চল্লিশা নগর পার হলেই মহুয়া মলুয়ার তীর্থস্থল নেত্রকোণা; জেলা সদরের স্টেশান নেত্রকোণা কোর্ট, বাংলা এবং ঠাকুরাকোণা পারি দিয়েই ৯ নম্বর স্টেশনটির নাম বারহাট্টা। বাস্তবে পদধূলি না পড়লেও হুলিয়ার কবি নির্মলেন্দু গুণের সুবাদে অনেকের কাছেই অতি পরিচিত ছোট্ট এই মায়াবী স্টেশন।

“বারহাট্টা নেমেই রফিজের স্টলে চা খেয়েছি,
অথচ কি আশ্চর্য,পুনর্বার চিনে দিতে এসেও
রফিজ আমাকে চিনলো না”

হ্যাঁ, কবি নির্মলেন্দু গুণের বারহাট্টা।
যেখানে তাঁর কৈশোর ও যৌবনের অনেক মূল্যবান সময় কেটেছে। আড্ডা দিয়েছেন। জীবনের প্রথম ট্রেনে চড়েছেন। পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে কবিতা লিখার অপরাধে হুলিয়া মাথায় নিয়ে এই স্টেশানে নেমেই কালো মাটির পথ হেঁটে নিজ গ্রাম কাশবনে গিয়েছেন। এই রফিজের স্টলেই জমতো বারহাট্টার সাংস্কৃতিক জগতের বৈকালিক আড্ডা।

আজ রফিজ নেই। স্টলও নেই। রফিজ পরবর্তী সময়ে সেখানে ছিল দীলিপের স্টল। মালিক বদল হতে হতে সেখানে এখন কদ্দুসের চায়ের দোকান। স্টেশনের শোভা হয়ে থাকা মজিবুরের পানের দোকানটিও নেই। কিন্তু তাতে কি ! এখনও প্রতি সন্ধ্যায় বারাহাট্টার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আড্ডা বসে এই স্টেশনকে ঘিরে।

অনেক কিছুই আগের মতো নেই। কয়লার ইঞ্জিন জাদুঘরে গেছে অনেক আগেই। টরেটক্কার পরিবর্তে যোগাযোগ হয় টেলিফোনে। এরপরও কিছু ঐতিহ্য টিকে আছে এখনও। ঐতিহ্য অনুসারে এখনও লোহার চাকা ঘুরিয়ে সিগন্যাল ডাউন হয়। এখনও টুং…টু… টুংটুংটুংটুং .. ঘন্টা বাজিয়ে ট্রেনের আগমন বার্তা ঘোষণা করা হয়।

আমূল পরিবর্তনের মাঝেও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁডিয়ে আছে স্টেশনের নামফলক। স্টেশনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের প্লাটফর্ম সীমানায় দন্ডায়মান লোহার ক্যানভাসে বাংলা ও ইংরেজী হরফে লিখা বারহাট্টা স্টেশনের নামফলকটি এখনও বৃটিশ ঐতিহ্যের সাক্ষ্য ঘোষণা করছে।

অবকাঠামোরও পরিবর্তন হয়েছে অনেক। আধুনিক যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ফলে ১৯৩২ সালে বৃটিশ সরকার কর্তৃক নির্মিত লাল রঙের দালান, ওয়েটিং রুম, কোয়ার্টার এখন পরিত্যাক্ত হলেও, বাঙালী জাতির গৌরবগাঁথা মহান মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী সেই রেনট্রি গাছ- যার নিচে দাঁড়িয়ে ১৯৭০ সালের ১০ অক্টোবর শতাব্দীর মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের আগমনের সে স্মৃতি বারহাট্টার কেউ সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলেও বিশাল গাছটিই যেন বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

স্টেশনের পূর্ব-উত্তর কোণে রারহাট্টা সি.কে.পি. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। কবির স্কুল। তিনি সে স্কুলের ছাত্র এবং শিক্ষক দুটোই ছিলেন। ঐ স্কুলে বসেই কবি জীবনের প্রথম কবিতাটি লিখেছিলেন-

“আমি এখন পড়ি যে ভাই বারহাট্টা হাই স্কুলে,
একে-অন্যে থাকি হেথায় ভাই-বন্ধু বলে।
এই স্কুলটি অবস্থিত কংস নদের তীরে,
আমাদের বাড়ি হইতে দেড় মাইল উত্তরে।”
(চলবে)

লেখক আসলাম আহমেদ খান,, নিউ ইয়র্ক।





আজকের নামাজের সময়সূচী

    Dhaka, Bangladesh
    বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:২১
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩৮
    যোহরদুপুর ১১:৫৯
    আছরবিকাল ৩:২৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:১৯
    এশা রাত ৭:৩৭

স্বর্ণা যুব সমবায় সমিতি লিঃ

পুরাতন সংবাদ

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
©2019PROTHOM SOKAL24. All rights reserved.
Design BY PopularHostBD